Sunday, October 25, 2020

**-* শুভ বিজয়া *-**

মাকে আমি দেবো বলে, 
সামনে যেন এসে চলে 
সেই আশা বুকে রেখে, 
বিজয়া আজ মিষ্টি মুখে !! 
**-* শুভ বিজয়া *-**

ডুয়ার্সের অর্থ

ডুয়ার্স কোনও জায়গাবিশেষের নাম নয়। শিলিগুড়ি থেকে সেবক হয়ে তিস্তা নদীর ওপরে করোনেশন ব্রিজ পেরোলেই ডুয়ার্সের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া যায়। এর পর সোজা আলিপুরদুয়ারের দিকে ডুয়ার্স দেখতে দেখতে এগিয়ে যাওয়া। এক সময় ভুটানের অসংখ্য প্রবেশপথ ছড়িয়ে ছিল জলপাইগুড়ির জেলার উত্তরাঞ্চলে। অনেকের মতে দুয়ার থেকেই ডুয়ার্স শব্দের উৎপত্তি। ডুয়ার্স শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে একে একে ভেসে ওঠে জঙ্গল, পাহাড়, অসংখ্য নদী ঘেরা উত্তরের শান্ত-সবুজ নির্জন একটি এলাকা। স্বপ্নমাখা নীল আকাশের নিচে পাহাড়ের গায়ে একরাশ সবুজ। যেখানে হাজারও প্রজাপতির চঞ্চল ডানায় ছলকে ওঠে একরাশ রং। স্বপ্ন ও বাস্তবতার এক অপূর্বৃ স্বাদ গ্রহণ করতে মানুষ ছুটে চলে ডুয়ার্সের পথে। নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় এর মতো সাহিত্যিকের বিভিন্ন লেখায় ডুয়ার্সের সৌন্দর্যের যে বর্ণনা বাঙালি পাঠক পেয়েছে, তাতে ডুয়ার্সে একবার ঘুরে আসার ইচ্ছা একজন প্রকৃতি প্রেমিকের না জেগে পারে না।


ওদলাবাড়ি থেকে কুমারগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত তিস্তা থেকে সংকোশ পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলার মাত্র ১১টি ব্লকে ১৩৮টি ভাষা ও উপভাষার মানুষের বাসভূমি ডুয়ার্স। কোচ, রাভা, মেচ, রাজবংশী, বোড়ো, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও এই সব জনজাতির পাশাপাশি রয়েছেন বাঙালি-সহ অন্যান্য বহু ভাষাভাষীর মানুষ। আজান আর শাঁখের সুরে বেজে উঠেছে প্রাণের ঐক্যতান। চাঁদভাঙা জোছনা রাতে কুলি লাইন থেকে উঠে আসা দ্রিমি দ্রিমি মাদলের বোল চাবাগিচার সবুজ গালিচা পেরিয়ে কখন যেন আছড়ে পরে নীল পাহাড়ের গায়ে।

যাওয়া – ডুয়ার্সের কোনও জায়গায় যেতে শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কয়েক দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া যায়। জলদাপাড়া ও বক্সাঅরণ্যে আলিপুরদুয়ার হয়েও যাওয়া যায়। কোনও কোনও ট্রেন হাসিমারা-তেও থামে। শিলিগুড়ি থেকে ডুয়ার্সের বিভিন্ন অংশে যাওয়ার জন্য বাসও পাওয়া যায়।

মরসুম – ১৬ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর গরুমারা ও জলদাপাড়া অভয়ারণ্য বন্ধ থাকে। বেড়ানোর সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ

Friday, October 23, 2020

গরুমারা জাতীয় উদ্যান

লাটাগুড়ি থেকে চালসা যাওয়ার পথে ৯ কিমি দূরে ডানহাতে গরুমারা অভয়ারণ্যের মূল ফটক ও চেকপোস্ট। চেকপোস্ট পেরিয়ে চা-বাগানকে বাঁয়ে রেখে রাস্তা চলে গেছে জঙ্গলের গভীরে। এই পথ ধরে আরও ৬ কিমি গেলে গরুমারা বনবাংলো। ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডার, বাইসন আর হাতির জন্য গরুমারা অভয়ারণ্য বিখ্যাত। বহেড়া, কাটুস, শিমুল, শিরীষ, জাম, লালি গাছে ছাওয়া সবুজ অরণ্য ছড়িয়ে আছে প্রায় ৮০ বর্গ কিমি জায়গা জুড়ে। ১৯৭৬ সালে অভয়ারণ্যের স্বীকৃতি পায় গরুমারা। ১৯৯৪ সালে পায় জাতীয় উদ্যানের শিরোপা।
বনবাংলোর পাশেই রাইনো পয়েন্ট ওয়াচ টাওয়ার। নিচে ইংডং নদী, নদীর পাড়ে সবুজ ঘাসজমি। সেখান থেকে নিরুপদ্রবে হিংস্র শ্বাপদদের নিজস্ব জীবন যাপন চাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখার এমন সুযোগ কটা জায়গাতেই বা মেলে। শুধু চতুষ্পদীই বা কেন, পাখি দেখতে চাইলেও গরুমারার বিকল্প নেই। এক কথায় নাগরিক জীবনের অরণ্য উদ্‌যাপন।
সল্টলিকে নুন চাটতে আসে গন্ডার, বাইসন, হাতি। বনবাংলোয় থাকলে রাতে ওয়াচটাওয়ার থেকে স্পটলাইট ফেলে বন্যপ্রাণী দেখানো হয়। বনবাংলোর সামনে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ঘেরা জায়গায় কুনকি (পোষা) হাতিদের রাখা হয়। বনবাংলো থেকে দেড় কিমি দূরে যাত্রাপ্রসাদ ওয়াচটাওয়ার। ওপর থেকে নীচে মূর্তি নদী ও বিস্তীর্ণ চারণভূমি দেখা যায়। এখানেই দেখা হয়ে যেতে পারে বাইসন, গন্ডার, হাতির পাল, হরিণ আর ময়ূর-ময়ূরীদের সঙ্গে। সঙ্গে বাইনোকুলার থাকলে সুবিধা হবে। জঙ্গলের পথে দৌড়ে বেড়ায় বুনো মোরগ। ধীরেসুস্থে রাস্তা পার হয় ময়ূর। লাটাগুড়ি থেকে চালসার পথে ২ কিমি এগোলে ডান হাতে চুকচুকি। চুকচুকি হ্রদের ধারে চুকচুকি ওয়াচটাওয়ার। শীতকালে এখানে নানান প্রজাতির পরিযায়ী পাখিদের মেলা বসে যায়। গরুর গাড়িতে চেপে ঘুরে আসা যায় মেদলা ওয়াচটাওয়ার। থাকা – গরুমারা অভয়ারণ্যে কাঠের বনবাংলো আছে। এখানে থাকতে হলে সঙ্গে রেশন নিয়ে আসতে হবে। বনবাংলো বুকিং করতে হবে, ডি এফ ও, জলপাইগুড়ির থেকে।

পশ্চিমবঙ্গ আপৎকালীন নম্বর

পশ্চিমবঙ্গের আপৎকালীন নম্বর পুলিশ বিভাগ, পুলিশ স্টেশন, হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক, রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর এবং রাজ্যের অন্যান্য অপরিহার্য অংশের নম্বর নিয়ে গঠিত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আপৎকালীন নম্বরগুলি নাগরিকদের সহায়তা প্রদান করে।

রাজ্যে অনেক কেন্দ্র আছে যা ২৪ ঘন্টা রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা প্রদান করে। রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে চারিদিকে বহু হাসপাতাল ছড়িয়ে রয়েছে।এমনকি সরকার গ্রাম্য এলাকাগুলিতেও বিনামূল্যে শয্যা সুবিধাসহ রাজ্যের সকল রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল স্থাপন করেছে। সমাজের চিকিৎসা খাতে সাহায্য করার জন্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বহু ২৪ ঘন্টা উপলব্ধ ওষুধের দোকান আছে যা পুরো সপ্তাহ সারা দিন ধরে খোলা থাকে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশের পুলিশ থানায় নিয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং নাগরিকদের একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত জীবনের আশ্বাস প্রদান করে। পুলিশ নাগরিকদের মহান সহায়তা করে। রাজ্যের শহর ও নগরগুলিতে অগ্নি নির্বাপক সুবিধাও রয়েছে। বিপদগ্রস্ত মানুষদের ডাকে অবিলম্বে দমকল চলে আসে। রাজ্যের রেলওয়ে স্টেশন এবং বিমানবন্দরে টেলিফোনসংক্রান্ত সহায়তা উপলব্ধ রয়েছে। নির্ধারিত বিমান এবং ট্রেনের অনুসন্ধান টেলিফোনে পাওয়া যায়। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সময়ে পশ্চিমবঙ্গের আপৎকালীন নম্বর নাগরিকদের ও ভ্রমণকারীদের সহায়তা করে।

পুলিশ স্টেশন
পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ স্টেশন তাদের দ্রুত ও দক্ষ পরিষেবার জন্য বিখ্যাত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুলিশ বাহিনী পশ্চিম বঙ্গ পুলিশ (ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ) হিসাবে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিভাগের অধীনে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ছড়িয়ে আছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বহু অঞ্চল এবং জেলায় বিভক্ত। প্রতিটি অঞ্চলে যেমন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল নেতৃত্বে করেন সেরকম পুলিশের একজন সুপারিনটেনডেন্ট প্রতিটি পুলিশ জেলার প্রধান। বর্তমানে রাজ্যে তিনটি পুলিশ অঞ্চল রয়েছে, যথা উত্তরবঙ্গ অঞ্চল, পশ্চিম অঞ্চল এবং দক্ষিনবঙ্গ অঞ্চল। এক একটি অঞ্চলের অধীনে পাঁচটি বা ছয়টি জেলা থাকে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি পুলিশ স্টেশন এই ধরনের জেলার অধীন। একটি পুলিশ স্টেশনের প্রধান হলেন ইন্সপেক্টর বা সাব-ইন্সপেক্টর। একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান দায়িত্ব ওই অঞ্চলের পুলিশ স্টেশনের উপর থাকে।

পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) – ১০০
লালবাজার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) – ২২৩৫০২৩০, ২২১৫৫০০০ – ০১
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ – ২২২১৫৪১৫, ২২২১৫৪৮৬
 

হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্স
পশ্চিমবঙ্গ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সারা বছর, সারাদিন এবং সব সময়ে উপলব্ধ। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমগুলিতে রোগীদের বহন করার জন্য তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলোতে অনেক হাসপাতাল আছে যেগুলি আপত্কালীন অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত। রোগীদের প্রয়োজনের দেখাশুনার জন্য বেসরকারী দপ্তর আছে। অ্যাম্বুলেন্সে জরুরী ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সবরকমের চিকিৎসা যন্ত্র থাকে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের অ্যাম্বুলেন্সগুলিতে হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যাওয়াকালীন তাদের পরিচালনা করার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী থাকে।

হাসপাতাল ছাড়াও কিছু বেসরকারী সংস্থা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা প্রদান করে থাকে। ২৪ ঘন্টা টেলিফোনসংক্রান্ত পরিষেবা সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে সাহায্য করে। পশ্চিমবঙ্গ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা খুবই দ্রুত এবং চটপটে, তারা সময় নষ্ট না করে একটি ফোন পাওয়ার সাথে সাথেই সঠিক স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দেয়।
নীচের তালিকায় কলকাতা শহরের কিছু অ্যাম্বুলেন্স কেন্দ্রের যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে –

সেন্ট জন্স অ্যাম্বুলেন্স (এইচ.কিউ ) – ২২৪৮৫২৭৭
কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (অ্যাম্বুলেন্স) – ২২৩৯২২৩২, ২২৩৯২২৩৩
বেল ভিউ নার্সিং হোম – ২২৪৭৭৪৭৩, ২২৪৭২৩২১
কোঠারি মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট – ২৪৫৬৭০৫০, ২৪৭৯২৫৬১
ক্যালকাটা হসপিটাল অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ – ২৪৫৬৭৭০০, ২৪৭৯১৮০৫
এস.এস.কে.এম হসপিটাল (পি.জি) – ২২২৩৬০২৬, ২২২৩৬২৪২
ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ – ২২৪১৯০১, ২২৪১৪৯০৪
বি.এম বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টার – ২৪৫৬৭০০১, ২৪৫৬৭০০৫
আর.জি.কর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল – ২৫৫৫৭৬৭৬, ২৫৫৫৭৬৫৬
এন.আর.এস. মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল – ২২৪৪৩২১২, ২২৪৪৩২১৭
পিয়্যারলেস হসপিটাল – ২৪৬২২৩৯৪, ২৪৬২২৪৬২
উডল্যান্ড – ২৪৫৬৭০৭৯, ২৪৫৬৭০৭৬
আর.কে.এম.সেবা প্রতিষ্ঠান (শিশু মঙ্গল) – ২৪৭৫৩৬৩৬, ২৪৭৫৩৬৩৮
 

পশ্চিমবঙ্গের হোটেল এবং গেস্ট হাউস
স্টেট গর্ভনমেন্ট গেস্ট হাউস (কিড স্ট্রীট ) – ২২২৯৭৪৬৩
স্টেট গর্ভনমেন্ট সার্কিট হাউস (হিউজ ফোর্ড সেন্ট ) – ২২৪০৫২৪২
গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল – ২২৪৮২৩১১
ওবেরয় গ্র্যান্ড – ২২৪৯২৩২৩
তাজ বেঙ্গল – ২২২৩৯৩৯
হোটেল হিন্দুস্থান ইন্টারন্যাশনাল – ২২৪৭২৩৯৪
এয়ারপোর্ট অশোকা – ২৫৫১৯১১১
কেনিলওর্থ হোটেল – ২২৮২৩৪০৩
পার্ক হোটেল – ২২৪৯৩১২১
পিয়্যারলেস ইন – ২২২৮০৩০১
আ্যস্টর হোটেল – ২২৮২৯৯৫০
ফেয়ারলন হোটেল – ২২৪৫১৫১০
হোটেল রাত দিন – ২২৪৭৬৯১১
লিটন হোটেল – ২২৪৯১৮৮১
হোটেল শালিমার – ২২২৮৫০৩০
হোটেল আনন্দ ভবন – ২২৩৭৪০১৪
হোটেল সপ্তর্ষি – ২৪৪০৫৪২০
 

পশ্চিমবঙ্গের বিমানবন্দর

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর কলকাতার দমদমে অবস্থিত। এটি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলি বাগডোগরা, পানাগড়, মালদা, কলাইকুন্ডা কোচবিহার, ব্যারাকপুর ও বালুরঘাটে অবস্থিত। এই বিমানবন্দর শুধুমাত্র অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা দেয়।
দমদম বিমানবন্দর দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। কলকাতার এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যান্য অংশের সাথে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সংযোগ ঘটায়। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক (এন.এস.সি.বোস) বিমানবন্দর নিয়মিত বিমানের এক সু-পরিষেবা দ্বারা দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত।
পশ্চিমবঙ্গ বিমানবন্দরের যোগাযোগ নম্বর নিচে দেওয়া হল –

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দমদম

০৩৩ – ২৫১১ – ৬০৩০
০৩৩ – ২৫১১ – ৯১৭৭
০৩৩ – ২৫১১ – ৬৭৫২
০৩৩ – ২৫১১ – ৯৪১৬
০৩৩ – ২৫১১ – ৯২৯১
০৩৩ – ২৫১১ – ৯২৬৬
০৩৩ – ২৫১১ – ৯১৭২
০৩৩ – ২৫১১ – ৮৩১৮
০৩৩ – ২৫১১ – ৯৫৪৭
০৩৩ – ২৫১১ – ৯৩৬৬
০৩৩ – ২৫১১ – ৮৩১৮
০৩৩ – ২৫১১ – ৮৯৮০
 

পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ পরিষেবা
পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রধানত ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ড (ডাবলু.বি.এস.ই.বি)-এর দ্বারা সরবরাহিত হয়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিভাগকে দুই ভাগে পুনর্গঠন এবং বণ্টন করেছেন যথা- ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডাবলু.বি.এস.ই.ডি.সি. এল) এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (ডাবলু.বি.এস.ই.টি.সি.এল)।

পশ্চিমবঙ্গের ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও দেখাশুনা করা হয়। এই কমিশন রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যয়ের শুল্ক নির্ণয় এবং নিয়ন্ত্রণের দেখাশুনা করেন।

এছাড়াও কলকাতা শহরের কিছু এলাকায় সি.ই.এস.সি. লিমিটেড দ্বারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তারা ১৮৯৯ থেকে কলকাতা শহরে বিদ্যুৎ বিতরণ করা শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্নের জন্য আপনি নিচের তালিকায় দেওয়া টেলিফোন নম্বরে ফোন করতে পারেন -

ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ড (বিদ্যুৎ ভবন)
ফোন নং – ২৩৫৯ – ১৯১৫, ২৩৩৭ – ১১৫০
সি.ই.এস.সি গ্রাহক পরিষেবা
ফোন নং – ২৪৭৮ – ৪৩০২/৪৮৮৮/৪৮৮৯
অভিযোগ – সি.ই.এস.সি (উত্তর)
ফোন নং – ২২৩৭ – ৩১৬১/৬৪
অভিযোগ – সি.ই.এস.সি (দক্ষিণ)
ফোন নং – ২৪৬৬ – ৪৬৪৩/৩১৬১/৬২
অভিযোগ – সি.ই.এস.সি – হাওড়া
ফোন নং – ২৬৬৫ – ১১৪৩
বেহালা এমার্জেন্সি ডিপো
ফোন নং – ২৪৭৮ – ১৬৭৩
কালীঘাট এমার্জেন্সি ডিপো
ফোন নং – ২৪৫৫ – ৫৬০৯
 

পশ্চিমবঙ্গের ডাকঘর (পোস্ট অফিস)
পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ডাকঘর কলকাতা শহরে অবস্থিত। এটি কলকাতার, জেনারেল পোস্ট অফিস নামে পরিচিত। এটি এই শহরে বিবাদী বাগে অবস্থিত। এর ঠিকানা ৭৯ – বি ডালহৌসি স্কোয়ার, কলকাতা – ৭০০০০১। এই ভবনটি শহরের এক প্রধান প্রতীক বলে মনে করা হয়।

কলকাতা জি.পি.ও-র অধীনে বিভিন্ন এলাকার ডাকঘরগুলি কাজ করে। এই জি.পি.ও ভবনের স্থাপত্য তার সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এই মিউজিয়ামের সাথে একটি পোস্টাল মিউজিয়াম সংযুক্ত রয়েছে। এটি ১৮৮৪ সালে নির্মিত।

পশ্চিমবঙ্গের পোস্টাল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, এর অধীনে কর্মরত ডাকঘরগুলি সবসময় আপনাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকে।

এখানে পশ্চিমবঙ্গের ডাকঘর (পোস্ট অফিস)-এর টেলিফোন নম্বর দেওয়া হল :

০৩৩ – ২২১০ – ৭১৯০
০৩৩ – ২২১০ – ৫৮৯৯
০৩৩ – ২২১০ – ৫৬০১
 

পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে স্টেশন
পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন হাওড়ায় অবস্থিত। এই রেলওয়ে স্টেশন হাওড়া ব্রিজ দ্বারা কলকাতা শহরের সাথে সংযুক্ত। এটি ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলওয়ে জংশন। এই রেলওয়ে স্টেশন দেশের প্রায় সকল অংশের সাথে কলকাতা ও হাওড়া শহরকে সংযুক্ত করে।

রাজ্যের অন্যান্য অংশগুলি রেলপথ ও সড়কপথ দ্বারা খুব ভালভাবে হাওড়া স্টেশনের সাথে যুক্ত। এছাড়াও কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি চমৎকার সড়কপথের জালবিন্যাস দ্বারা পশ্চিমবঙ্গের রেলওয়ে স্টেশনের সাথে সংযুক্ত। এখানে কলকাতা শহরের যে কোন স্থানে আপনাকে পৌঁছানোর জন্য চব্বিশ ঘন্টা গাড়ী পরিষেবা এখানে উপলব্ধ।

পশ্চিমবঙ্গের রেলওয়ে স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর নিচে দেওয়া হল –

হাওড়া স্টেশন – ২৬৬০ – ২৫৮১/৭৪১২/৩৫৪২
চব্বিশ ঘন্টা অনুসন্ধান – ১৩১
রিজার্ভেশন স্ট্যাটাস – ১৩৫, ২২২০ – ৩৫০০
রেকর্ড তথ্য – ২২২০ – ৩৫৩৫
নিউ হাওড়া স্টেশন – ২৬৬০ – ২২১৭
পশ্চিমবঙ্গের জল সরবরাহ
পশ্চিমবঙ্গের জল সরবরাহ সাধারণভাবে ভালো। রাজ্যে বিভিন্ন নদী ও হ্রদ থাকায় সেচের জন্য জল সর্বদাই সহজলভ্য। বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে গঙ্গা নদী জলের প্রধান উৎস। রাজ্যে নলকূপ ব্যবহারের প্রচলনও আছে।

রাজ্যের শহুরে এলাকাগুলিতে ঘরোয়া এবং শিল্প-সংক্রান্ত ব্যবহারের জন্য প্রধানত জলের প্রয়োজন হয়া ঘরোয়া এবং শিল্প-সংক্রান্ত ব্যবহারের জন্য মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন দ্বারা নির্দিষ্ট এলাকায় জল সরবরাহে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। তারা প্রতিটি এলাকায় প্রতিটি বাড়ীতে নিয়মিত জল সরবরাহের ব্যাপারে দৃষ্টিপাত করে।

অন্যান্য আরো কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্থা আছে, যারা রাজ্যে পানীয় জল সরবরাহের দিকে বিশেষ নজর দেয়। পশ্চিমবঙ্গের জল সম্পর্কিত যেকোন সমস্যার জন্য আপনি যোগাযোগ করতে পারেন –

শ্রী কাশী বিশ্বনাথ সেবা সমিতি – ০৩৩ – ২২৩৯ – ৪১১৩, ০৩৩ – ২২৩৯ – ৩৭৫৯

কিছু অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর নিচে দেওয়া হল –

ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন – ২৪১১৬৩৮২, ২৪১১৬৩৮৮
নিউ সেক্রেটারিয়েট – ২২৪৮৬২৭১
রায়টার্স বিলডিং – ২২৩৫৫৬০১, ২২৩৫৩৩৭১
ফায়্যার – ১০১, ২২৪৪০১০১, ২২৪৪১০৬৩
 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরা
মুখ্যমন্ত্রীর নাম


শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ

১৫.০৮.১৯৪৭

২২.০১.১৯৪৮

ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

২৩.০১.১৯৪৮

২৫.০১.১৯৫০

ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

২৬.০১.১৯৫০

৩০.০৩.১৯৫২

ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

৩১.০৩.১৯৫২

০৫.০৪.১৯৫৭

ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

০৬.০৪.১৯৫৭

০২.০৪.১৯৬২

ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

০৩.০৪.১৯৬২

০১.০৭.১৯৬২

শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন

০২.০৭.১৯৬২

০৮.০৭.১৯৬২

শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন

০৯.০৭.১৯৬২

২৮.০২.১৯৬৭

শ্রী অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়

০১.০৩.১৯৬৭

২১.১১.১৯৬৭

শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ

২১.১১.১৯৬৭

১৯.০২.১৯৬৮

রাষ্ট্রপতি শাসন

২০.০২.১৯৬৮

২৪.০২.১৯৬৯

শ্রী অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়

২৫.০২.১৯৬৯

৩০.০৭.১৯৭০

রাষ্ট্রপতি শাসন

৩১.০৭.১৯৭০

০১.০৪.১৯৭১

শ্রী অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়

০২.০৪.১৯৭১

২৫.০৬.১৯৭১

রাষ্ট্রপতি শাসন

২৬.০৬.১৯৭১

১৯.০৩.১৯৭২

শ্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়

২০.০৩.১৯৭২

৩০.০৪.১৯৭৭

রাষ্ট্রপতি শাসন

৩১.০৪.১৯৭৭

২০.০৬.১৯৭৭

শ্রী জ্যোতি বসু

২১.০৬.১৯৭৭

২৩.০৫.১৯৮২

শ্রী জ্যোতি বসু

২৪.০৫.১৯৮২

২৯.০৩.১৯৮৭

শ্রী জ্যোতি বসু

৩০.০৩.১৯৮৭

১৮.০৬.১৯৯১

শ্রী জ্যোতি বসু

১৯.০৬.১৯৯১

১৫.০৫.১৯৯৬

শ্রী জ্যোতি বসু

১৬.০৫.১৯৯৬

০৫.১১.২০০০

শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

০৬.১১.২০০০

১৪.০৫.২০০১

শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

১৫.০৫.২০০১

১৭.০৫.২০০৬

শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

১৮.০৫.২০০৬

১৯.০৫.২০১১

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২০.০৫.২০১১

২৬.০৫.২০১৬

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২৭.০৫.২০১৬

বর্তমান

আলিপুরদুয়ার জেলার উন্নয়ন

২০১৪ সালে আলিপুরদুয়ারকে পশ্চিমবঙ্গের ২০তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি কাজ ও পরিষেবা মানুষের কাছে আরও দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে। জেলা, ব্লক ও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলির উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার।

স্বাস্থ্য
আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল ও বীরপাড়া হাসপাতালে ২টি ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান চালু হয়ে গেছে।
আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে Fair price diagnostic centre চালু হয়ে গেছে।
ফালাকাটায় উন্নতমানের মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে।
শিক্ষা
কালচিনি ও মাদারিহাটে নতুন মডেল স্কুল নির্মাণের কাজ চলছে।সব স্কুলে মিড ডে মিল চলছে যার ফলে পুষ্টি এবং ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে এবং স্কুল ছুট ছাত্রের সংখ্যা কমেছে।প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের জন্যও পৃথক শৌচাগার নির্মিত হয়েছে।
ভূমি সংস্কার ও কৃষি
এই জেলায় প্রায় ১৫০০ যোগ্য ভূমিহীন পরিবারের হাতে ‘নিজ গৃহ নিজ ভূমি’ প্রকল্পে পাট্টা তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় প্রায় ৩৫০০ পাট্টা প্রদান করা হয়েছে।এই জেলার প্রায় ৯২% কৃষক পরিবারকে কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।কৃষক বাজার – ফালাকাটায় একটি কৃষক বাজার চালু হয়ে গেছে।
১০০ দিনের কাজ
এই জেলায় বিভিন্ন ব্লকে ১০০ দিনের কাজে ২৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রায় ৭৮ লক্ষ শ্রম দিবস সৃষ্টি হয়েছে।

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন
মিশন নির্মল বাংলা – এই প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার শৌচাগার নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছে।

সংখ্যালঘু উন্নয়ন
বিগত দেড় বছরে ১০ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে প্রায় ২ কোটি টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া স্বনির্ভরতার জন্য সংখ্যালঘু যুবক-যুবতীদের সাড়ে ৩ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
অনগ্রসর কল্যাণ
‘শিক্ষাশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় এই জেলার প্রায় ৬১ হাজার ছাত্র-ছাত্রী সহায়তা পেয়েছে।

কন্যাশ্রী প্রকল্প
নবগঠিত আলিপুরদুয়ার জেলায় সাড়ে ৩৩ হাজারেরও বেশি ছাত্রী কন্যাশ্রী প্রকল্পের সহায়তায় এসেছে।

খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচী
‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় এই জেলায় প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ২ টাকা কেজি দরে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন।

পূর্ত ও পরিবহণ
বিগত সাড়ে চার বছরে এই জেলায় পূর্ত দপ্তর ৫০টি রাস্তাঘাট, ব্রিজ ইত্যাদি প্রকল্প রূপায়নের কাজ হাতে নিয়েছে, এর মধ্যে ৩টি প্রকল্পের কাজ প্রায় ১৫০কোটি টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
জেলার সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নে ২০০ কিমি রাস্তা পুনর্নির্মাণ/সম্প্রসারণ হয়েছে। আরও ১৫০ কিমি রাস্তার কাজ আগামী মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
বিদ্যুৎ ও অচিরাচরিত শক্তি
সমগ্র জেলায় ‘সবার ঘরে আলো’ প্রকল্পে ১০০% গ্রামীণ বৈদ্যুতিকরণের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে।

সেচ
এই জেলায় ৫০ কিমি দৈর্ঘ্যের বাঁধ সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য কারিগরী
বিগত সাড়ে চার বছরে ১৯টি জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, এর মধ্যে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে।লোকনাথপুর, যশোডাঙ্গা ও মাদারিহাটে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।
পর্যটন
এই জেলায় ডুয়ার্স মেগা ট্যুরিজম প্রজেক্ট-এর অন্তর্গত প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলছে। রত্নেশ্বর ঝিল, বাকলা, শিকিয়াঝোড়া এবং হাসিমারা এই প্রকল্পগুলির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে।

পুর ও নগরোন্নয়ন
এই জেলায় মিউনিসিপ্যালিটি ৩০ কোটি টাকারও বেশি পরিকল্পনা খাতে ব্যয় করেছে। শহরাঞ্চলে ৪০০-র বেশি বাসস্থান নির্মিত হয়েছে।

তথ্য ও সংস্কৃতি
বর্তমানে এই জেলায় ১২০০ জন লোকশিল্পী রিটেনার ফি ও পেনশন পাচ্ছেন। আরও প্রায় ২৫০ জন লোকশিল্পী রিটেনার ফি ও পেনশন পেতে চলেছেন।

আবাসন
আলিপুরদুয়ার জেলায় গীতাঞ্জলি ও অন্যান্য প্রকল্পে প্রায় ২০০০ বাসস্থান নির্মিত হচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ১১০০ বাসস্থানের কাজ নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়ে গেছে।

ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ
ক্রীড়ার মান উন্নয়নে জেলায় জেলায় ৪৭টি ক্লাবকে অর্থ সাহায্য করা হয়েছে।জেলায় ২৪টি মাল্টি জিম সেন্টার গড়ে তুলতে ৪৮ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
 

তথ্য সংকলন : কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট টীম,

শিক্ষকদের যোগ্যতা

নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা টেট-এ বসতে পারবে --

১. ২০১০ সালের ২৩ আগস্টের এনসিটিই বিজ্ঞপ্তিতে যে শিক্ষাগত এবং পেশাগত যোগ্যতার কথা বলা আছে, সেগুলি থাকতে হবে।
২. যারা ২০১০ সালের ২৩ আগস্টের এনসিটিই বিজ্ঞপ্তিতে কোনও শিক্ষক শিক্ষণ পাঠক্রমে(এনসিটিই বা আরসিআই অনুমোদিত) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
৩. আরটিই আইনের ২৩ নম্বর ধারার ২ নং উপধারায় যে সব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, সেই সব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে টেট-এ বসার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় পাওয়া যাবে। ওই উপধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে ছাড়গুলি নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে।

শিক্ষার অধিকার আইনআইনটি কী নিয়ে ?

৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। ৮৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন অনুযায়ী সংবিধানের ২১ক অনুচ্ছেদে এ কথা বলা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শিক্ষার অধিকার আইন প্রয়োগ করা হবে।
সরকারি স্কুলগুলি প্রতিটি শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেবে এবং স্কুল পরিচালন কমিটি দ্বারা স্কুলগুলি পরিচালিত হবে। বেসরকারি স্কুলগুলি মোট পড়ুয়ার অন্তত ২৫% শিশুকে বিনামূল্যে ভর্তি করবে।
গুণমানসহ বুনিয়াদি শিক্ষার সমস্ত দিকে নজরদারি চালাতে বুনিয়াদি শিক্ষার জাতীয় কমিশন (ন্যাশনাল কমিশন ফর ইলিমেন্টারি এডুকেশন) তৈরি করা হবে।
শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই), ২০০৯-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ভারতের ৬-১৪ বছর বয়সি সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা। বুনিয়াদি শিক্ষা সম্পূর্ণ করার আগে কোনও শিশুকে ফেল করানো, বহিষ্কার করা বা কোনও বোর্ডের পরীক্ষায় পাস করতে বাধ্য করা যাবে না।

যদি ৬ বছরের বেশি বয়সি কোনও শিশু স্কুলে ভর্তি না হয়ে থাকে বা তার বুনিয়াদি শিক্ষা সম্পূর্ণ না হয়ে থাকে, তা হলে তাকে তার বয়সের উপযোগী শ্রেণিতে ভর্তি করাতে হবে। যদি কোনও শিশুকে তার বয়স অনুযায়ী কোনও শ্রেণিতে ভর্তি করে দেওয়া হয়, তা হলে সে যাতে অন্যদের সঙ্গে একই মানে পৌঁছতে পারে, সে জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বুনিয়াদি শিক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে ভর্তি হওয়া প্রতিটি শিশু বুনিয়াদি শিক্ষা সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা পাবে, এমনকী তার বয়স যদি ১৪ বছর পেরিয়ে যায় তা হলেও।

ভর্তির জন্য বয়সের প্রমাণপত্র: বুনিয়াদি শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর বয়স তার জন্মের শংসাপত্র অনুযায়ী নির্ণিত হবে। এই শংসাপত্র জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ নিবন্ধীকরণ আইন, ১৮৫৬ বা নির্দেশিত অন্য কোনও নথি দ্বারা প্রমাণিত হলেই হবে। শুধুমাত্র বয়সের শংসাপত্রের অভাবে কোনও শিশুর স্কুলে ভর্তি আটকানো যাবে না।

যে শিশু বুনিয়াদি শিক্ষা শেষ করবে তাকে শংসাপত্র দিতে হবে।

ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত নির্দিষ্ট করার বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

প্রতিটি বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের জন্য ২৫ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে।

শিক্ষার গুণমানের উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাঁচ বছরের মধ্যে যথাযথ পেশাদার ডিগ্রি অর্জন করতে না পারলে শিক্ষকদের চাকরি যাবে।

প্রতি তিন বছরের মধ্যে স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাতে হবে (যেখানে সমস্যা আছে)। তা না হলে স্কুলের অনুমোদন বাতিল করা হবে।

অর্থনৈতিক দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ভাগাভাগি করে বহন করবে।

সুত্রঃ বিকাশপিডিয়া টীম

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর, ঈশ্বরচন্দ্র (১৮২০-১৮৯১) সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। তাছাড়া প্রতি বছরই তিনি বৃত্তি এবং গ্রন্থ ও আর্থিক পুরস্কার পান।
১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন। ১৮৪৬ সালের এপ্রিল মাসে সংস্কৃত কলেজে সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত কলেজের শিক্ষকগণের রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে ১৮৪৭ সালের জুলাই মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের কাজে ইস্তফা দেন এবং ১৮৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে, ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের হেড রাইটার ও কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন। এর আগে এ কলেজে পড়ার অধিকার ছিল কেবল ব্রাহ্মণ এবং বৈদ্য ছাত্রদের, কিন্তু তিনি সব শ্রেণির হিন্দুদের জন্যে কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করেন। তিনি কলেজে পড়ার জন্যে নামেমাত্র বেতন চালু করেন এবং প্রতিপদ ও অষ্টমীর বদলে রবিবার সপ্তাহিক ছুটি চালু করেন। কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যাতে ছাত্ররা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদ লাভ করতে পারে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সে প্রতিশ্রুতিও আদায় করেন। কিন্তু তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন কলেজের পাঠ্যক্রমে। পূর্বে ব্যাকরণ এবং বীজগণিত ও গণিত শেখানো হতো সংস্কৃতে, কিন্তু তিনি সংস্কৃতের বদলে ব্যাকরণ বাংলার মাধ্যমে এবং গণিত ইংরেজির মাধ্যমে পড়ানোর নিয়ম চালু করেন। ইংরেজি ভাষা শেখাকে তিনি বাধ্যতামূলক করেন এবং ইংরেজি বিভাগকে উন্নত করেন। বাংলা শিক্ষার ওপরও তিনি জোর দেন। তবে তারচেয়ে ব্যাপক পরিবর্তন করেন দর্শন পাঠ্যক্রমে। তিনি সাংখ্য এবং বেদান্ত দর্শনকে ভ্রান্ত এবং প্রাচীনপন্থী বলে বিবেচনা করতেন। সে জন্যে, তিনি বার্কলের দর্শন এবং অনুরূপ পাশ্চাত্য দর্শন শিক্ষাদানের বিরোধিতা করেন এবং তার পরিবর্তে বেকনের দর্শন এবং জন স্টুয়ার্ট মিলের তর্কশাস্ত্র পড়ানোর সুপারিশ করেন। অনেকে তাঁর সমালোচনা করলেও, তাঁর এ সংস্কার ছিল সুদূরপ্রসারী এবং শিক্ষা পরিষদ তাঁর এ সংস্কারের প্রশংসা করে এবং পুরস্কারস্বরূপ ১৮৫৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বেতন বৃদ্ধি করে।

১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর সরকার গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশে ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। দুবছরের মধ্যে তিনি এ রকমের বিশটি স্কুল স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি এসব স্কুলে পড়ানোর জন্যে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য একটি নর্মাল স্কুল স্থাপন করেন। তিনি নিজ গ্রামে নিজ খরচে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

এসব বাংলা মডেল স্কুল ছাড়া, সরকার বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তখন রক্ষণশীল সমাজ মনে করতো যে, স্ত্রীশিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ। সমাজের তীব্র বিরোধিতার মুখে এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কিনা—সরকার সে সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর ছিলেন স্ত্রীশিক্ষার বিশেষ সমর্থক। সরকার সেজন্যে এ কাজের দায়িত্ব দেয় তাঁর ওপর। তিনি বালিকা বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে স্থানীয় লোকদের সমর্থনে বর্ধমানে একটি স্কুল স্থাপন করেন। পরে ১৮৫৭ সালের নভেম্বর থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাসের মধ্যে আরও পঁয়ত্রিশটি স্কুল স্থাপন করতে সমর্থ হন।

কিন্তু শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পরিচালকের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কারণে তিনি এ কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। তাই তিনি সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদ এবং স্কুল পরিদর্শকের পদ-উভয় ত্যাগ করেন। এ রকমের উচ্চপদে বাঙালিদের মধ্যে সম্ভবত তিনিই অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরে শিক্ষা সম্প্রসারণের কাজে, বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। এ সময়ে তিনি বেথুন সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হন। এই সোসাইটির কাজ ছিল স্ত্রীশিক্ষা বিস্তার এবং পরিবার ও সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধির। তিনি স্কুল স্থাপনের জন্যে ধনী জমিদারদেরও উৎসাহ প্রদান করেন।

ধনী পরিবারের ছেলেদের ইংরেজি শেখানোর উদ্দেশে ১৮৫৯ সালে কলকাতা মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন স্থাপিত হয়। কিন্তু দুবছরের মধ্যে এ স্কুল বন্ধের উপক্রম হলে বিদ্যাসাগর এ স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৮৬৪ সালে তিনি এর নাম রাখেন হিন্দু মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউট। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে তিনি এ স্কুলে এন্ট্রেন্স পরীক্ষার জন্য ছাত্রদের শিক্ষা দিতে থাকেন এবং ক্রমান্বয়ে সাফল্য লাভ করেন। ১৮৭২ সালের গোড়ার দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এ বিদ্যালয়কে কলেজ এবং ১৮৭৯ সালে ডিগ্রি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সংস্কৃত কলেজের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং বাংলা ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো পাঠ্যপুস্তক রচনা ও প্রকাশ করা। বর্ণপরিচয় (১৮৫১) প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রথম শিক্ষার্থীদের জন্যে এ রকমের কোনো আদর্শ পাঠ্যপুস্তক ছিল না। তাঁর বর্ণপরিচয়ের মান এতো উন্নত ছিল যে, প্রকাশের পর থেকে অর্ধশতাব্দী পর্যন্ত এই গ্রন্থ বঙ্গদেশের সবার জন্যে পাঠ্য ছিলো। দেড়শো বছর পরেও এখনও এ গ্রন্থ মুদ্রিত হয়। বর্ণপরিচয়ের মতো সমান সাফল্য লাভ করেছিল বোধোদয় (১৮৫১), কথামালা (১৮৫৬), চরিতাবলী (১৮৫৬) এবং জীবনচরিত (১৮৫৯)। সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা ও (১৮৫১) বর্ণপরিচয়ের মতো অভিনব— এর আগে বাংলা ভাষায় কোনো সংস্কৃত ব্যাকরণ ছিল না। চার খন্ডে লেখা ব্যাকরণ-কৌমুদীও (১৮৫৩-৬৩) তাঁর ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অবদান।

তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, তিনি কেবল লেখাপড়া শেখানোর কৌশল হিসেবে এগুলি লেখেননি, বরং ছাত্রদের নীতিবোধ উন্নত করা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানও তাঁর লক্ষ্য ছিল। যেমন চরিতমালায় তিনি প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিদের জীবনী লেখেননি, বরং ইউরোপের ষোলোজন বিখ্যাত ব্যক্তির পরিচিতি দিয়েছেন। তেমনি জীবনচরিতে তিনি কোপারনিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন এবং হার্শেলের মতো বিজ্ঞানীদের এবং উইলিয়ম জোনসের মতো পন্ডিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি লিখেছেন। নীতিবোধেও একই দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে। এতে তিনি আনুষ্ঠানিক ধর্ম এবং আচার-অনুষ্ঠানের কোনো উল্লেখ করেননি, বরং যেসব নীতিবোধ সকল মানুষের থাকা উচিত, তার কথা লিখেছেন। কথামালায় তিনি নীতিমূলক গল্প সংগ্রহ করেছেন। আর তিন খন্ড আখ্যানমঞ্জরীতে সংগ্রহ করেছেন ইউরোপ-অ্যামেরিকার (এবং চারটি আরব দেশ ও পারস্যের) সত্যিকার এবং জনপ্রিয় গল্প। এসব গল্পের শিরোনাম—মাতৃভক্তি, পিতৃভক্তি, ভ্রাতৃস্নেহ, গুরুভক্তি, আতিথেয়তা, পরোপকার এবং সাধুতার পুরস্কার—থেকেই বোঝা যায় যে, তিনি কেবল ছাত্রদের নীতিবোধ উন্নত করতে চাননি, সেই সঙ্গে চেয়েছিলেন তাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে। তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলি দীর্ঘদিন বঙ্গদেশের সর্বত্র পাঠ্য ছিল। এগুলোর মাধ্যমে তিনি একই সঙ্গে প্রামাণ্য ভাষা ও বানান যেমন শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন, তেমনি পেরেছিলেন নীতিবোধ উন্নত করতে।

তিনি কেবল পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে নয়, বরং তাঁর অন্যান্য রচনা দিয়েও বাংলা গদ্যের সংস্কার এবং তার মান উন্নত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের পন্ডিতগণ এবং রামমোহন রায় যে বাংলা গদ্যরীতি নির্মাণ করেছিলেন, তা ছিল আড়ষ্ট, কৃত্রিম এবং কোনোমতে ভাব প্রকাশের উপযোগী। তাঁর আগেকার গদ্যে তথ্য প্রকাশের মতো শব্দাবলী ছিল কিন্তু তাতে এমন সৌন্দর্য, সাবলীলতা এবং গতির স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না, যাকে সাহিত্যিক গদ্য বলা যায় বা যা দিয়ে সাহিত্য রচনা করা যায়। ১৮৪৭ সালে বেতালপঞ্চবিংশতি প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর তা পাল্টে দিলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের শব্দ-সাযুজ্য আবিষ্কার, বাক্য-কাঠামো সংস্কার, কর্তা ও ক্রিয়াপদ এবং ক্রিয়া ও কর্মের মধ্যে যথাযথ অন্বয় স্থাপন করে বাংলা গদ্যকে মাধুর্য দান করেন। তাছাড়া, শ্বাস-যতি ও অর্থ-যতির সমন্বয় ঘটান এবং পাঠক যাতে তা সহজেই দেখতে পান, তার জন্যে ইংরেজি রীতির যতিচিহ্ন, বিশেষ করে কমা, ব্যবহার করেন। তাঁর আগে একমাত্র অক্ষয়কুমার দত্তই ইংরেজি যতিচিহ্ন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

অবশ্য তিনি একই গদ্যরীতিতে তাঁর সব রচনা লেখেননি, তিনি পাঠ্যপুস্তক যে-রীতিতে লিখেছেন, সাহিত্য রচনা করেছেন তা থেকে ভিন্ন ভঙ্গিতে; আবার তাঁর বেনামী পুস্তকগুলির রীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রীতির—তা পরিপূর্ণ হাস্যরস এবং ব্যঙ্গবিদ্রূপে।

তাঁর প্রথম সাহিত্যগ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতিতেই বিদ্যাসাগর প্রমাণ দিয়েছেন, তিনি কেবল বেতালের গল্পগুলিকেই নতুন করে বলেছেন, অনুবাদ করেননি। গল্পগুলি বলতে গিয়ে তিনি তাদের সংস্কার এবং পরিবর্তন করেছেন এবং মূল বেতালের স্থূল রুচি ত্যাগ করে তাদের আধুনিক পাঠকদের কাছে পরিবেশনের উপযোগী করে তুলেছেন। একই কথা বলা যায় কালিদাসের রচনা অবলম্বনে রচিত শকুন্তলা (১৮৫৪) সম্পর্কে। তাছাড়া এ গ্রন্থে তিনি শকুন্তলা এবং তার দুই সখীকে রীতিমতো বাঙালি নারীর মতো করে নির্মাণ করেছেন। সীতার বনবাসের (১৮৬০) সীতাও নিতান্ত বাঙালি নারী হয়ে উঠেছেন। এমনকি তিনি যখন ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) নাম দিয়ে শেক্সপীয়রের কমেডি অব এরর্সের অনুবাদ করেছেন, তখন তাকে বাঙালি পরিবেশের উপযুক্ত করে রচনা করেছেন। তদুপরি তাঁর ভ্রান্তিবিলাস গল্প, নাটক নয়। তাঁর ভাষাভঙ্গি, সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং শব্দের মারপ্যাঁচে এই দুটি গ্রন্থকেই অনুবাদ নয়, বরং মৌলিক গ্রন্থ বলে মনে হয়। তাঁর গদ্যে তিনি অনুপ্রাসসহ সঙ্গীতময় এবং বিষয়ের উপযোগী শব্দ ব্যবহার করেছেন। শ্বাসযতি ও অর্থযতির সমন্বয় ঘটানোর ফলে তাঁর গদ্যে এমন সৌন্দর্য এসেছে যা তাঁর পূর্ববতী লেখকরা আবিষ্কার করতে পারেননি।

তিনি ছিলেন আধুনিক মনোভাবাপন্ন। তিনি উপলব্ধি করেছেন, পুরোনো মূল্যবোধ এবং পরিবারের ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে না পারলে সমাজ এবং দেশের কখনো প্রকৃত উন্নতি হবে না। এ জন্যে তিনি বিধবা-বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন।

তাঁর সংস্কৃত কলেজ ছাড়ার কয়েক মাস পরে বালবিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে তাঁর প্রথম বেনামী লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৪২ সালের এপ্রিল মাসে বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকায়। আর এ বিষয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে, দ্বিতীয় গ্রন্থ অক্টোবর মাসে। এভাবে বিধবাবিবাহের পক্ষে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়া ছাড়াও, বিধবাদের পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে একটি আইন প্রণয়নের জন্যে তিনি সামাজিক আন্দোলন আরম্ভ করেন। এ মাসেরই ৪ তারিখে তিনি এর পক্ষে বহু স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠান। পরে এরকমের আরও ২৪টি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়। অনেকগুলি আবেদনপত্র আসে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চল থেকে। এসব আবেদনপত্রে প্রায় পঁচিশ হাজার স্বাক্ষর ছিল। অপরপক্ষে, রক্ষণশীল সমাজ আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করে সরকারের কাছে আঠাশটি আবেদনপত্র পাঠান। তাঁদের যুক্তি ছিল যে, এ রকমের আইন পাস করে দেশবাসীর ধর্মে হস্তক্ষেপ করা সরকারের পক্ষে উচিত হবে না। এতে স্বাক্ষর ছিল পঞ্চান্ন হাজারেরও বেশি। বিরোধীদের পক্ষেই পাল্লা ভারী ছিল, তা সত্ত্বেও ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়।

বিদ্যাসাগর এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচন্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তাছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে সাফল্য লাভ করায় পরে কুলীনদের বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ আইন পাস করার পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন জানান।

তাঁর দয়া এবং মানবিকতার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিতি পান (তাঁকে এ বিশেষণ প্রথমে দিয়েছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত)। তিনি তাঁর দান এবং দয়ার জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি ঐতিহ্যিক এবং রক্ষণশীল পরিবারে এবং সমাজ সংস্কারের জন্যে তিনি যুক্তিও দিতেন হিন্দু শাস্ত্র থেকে; কিন্তু তিনি ছিলেন ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সন্দিহান মনের। তাঁর বোধোদয় গ্রন্থ যেমন তিনি শুরু করেছেন পদার্থের সংজ্ঞা দিয়ে। পরে সংজ্ঞা দিয়েছেন ঈশ্বরের, যাঁকে তিনি বলেছেন সর্বশক্তিমান, সর্বত্রবিরাজমান চৈতন্যস্বরূপ। পরে এ গ্রন্থে তিনি যা কিছু দেখা যায়, স্পর্শ করা যায়, অনুভব করা যায়, তেমন সব বিষয়ের সংজ্ঞা দিয়েছেন; কিন্তু ঈশ্বর বা কোনো অতিলৌকিক শক্তির নামও উল্লেখ করেননি।

সংস্কৃত কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮৫৫ সালে সরকার তাঁকে হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুর ও নদীয়া জেলার বিশেষ স্কুল পরিদর্শকের (Special Inspector of Schools) অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করে। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা) ও বেথুন সোসাইটিসহ আরও কিছু সংগঠনের সম্মানিত সভ্য ছিলেন। ১৮৫৮ সালে যাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফেলো নির্বাচিত হন তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। ১৮৭৭ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ইম্পেরিয়াল অ্যাসেমব্লিজ-এ সম্মাননা-সনদ লাভ করেন এবং ১৮৮০ সালের জানুয়ারিতে সি.আই.ই (CIE) হন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেন। তাঁর মৃত্যু ২৯ জুলাই,

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

ডঃ বাবাসাহেব ভীমরাও রামজি আম্বেদকর

ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেডকর (১৪ই এপ্রিল ১৮৯১ - ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬) ছিলেন একজন ভারতীয় জ্যুরিস্ট, রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ , ঐতিহাসিক, বাগ্মী, বিশিষ্ট লেখক, অর্থনীতিবিদ, পণ্ডিত, সম্পাদক, রাষ্ট্রবিপ্লবী ও বৌদ্ধ পুনর্জাগরণবাদী । তিনি বাবাসাহেব নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ভারতের সংবিধানের খসড়া কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতের দলিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। ইনি ভারতের সংবিধানের মুখ্য স্থাপক।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়


ভীমরাও রামজি আম্বেদকর ভারতের গরীব “মহর” পরিবারে (তখন অস্পৃশ্য জাতি হিসেবে গণ্য হত) জন্ম গ্রহণ করেন। আম্বেদকর সারাটা জীবন সামাজিক বৈষম্যতার , “চতুর্বর্ণ পদ্ধতি”-হিন্দু সমাজের চারটি বর্ণ এবং ভারতবর্ষের অস্পৃশ্য প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং হাজারো অস্পৃশ্যদের থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্ম স্ফুলিঙ্গের মতো রূপান্তরিত করে সম্মানিত হয়েছিলেন। আম্বেদকরকে ১৯৯০ সালে মরণোত্তর “ভারতরত্ন” - ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় উপাধি'তে ভূষিত করা হয়। বহু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে, ভারতের মহাবিদ্যালয় শিক্ষা অর্জনে আম্বেদকর প্রথম “সমাজচ্যুত ব্যক্তি” হিসেবে পরিণত হয়েছিলেন। অবশেষে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি (বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ উপাধি) লাভ করার পর, আম্বেদকর বিদ্বান ব্যক্তি হিসেবে সুনাম অর্জন করেন এবং কিছু বছর তিনি আইন চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন, পরে তিনি ভারতের অস্পৃশ্যদের সামাজিক অধিকার ও সামাজিক স্বাধীনতার উপর ওকালতির সময় সমসাময়িক সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন। কিছু ভারতীয় বৌদ্ধালম্বীদের দ্বারা তিনি “বোধিসত্ত্ব” (গৌতম বুদ্ধের পূর্ব জন্ম) উপাধিতে সম্মানিত হয়েছিলেন ,যদিও তিনি নিজেকে “বোধিসত্ত্ব” হিসেবে কখনো দাবি করেননি।

জীবন এবং শিক্ষা
'মোহ' অঞ্চলের (বর্তমান মধ্য প্রদেশ) এবং কেন্দ্রীয় সামরিক সেনানিবাসে ব্রিটিশ কর্তৃক স্থাপিত শহরে আম্বেদকর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন রামজী মালোজী শাকপাল এবং ভীমাবাইের ১৪তম তথা সর্বকনিষ্ঠ পুত্র। তাঁর পরিবার ছিলেন মারাঠী অধ্যুষিত বর্তমান কালের “মহারাষ্ট্র”-এর রত্নগিরি জেলার “আম্বোভাদ” শহরে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিভুক্ত ছিলো (মহর জাতি), যারা (অস্পৃশ্য জাতি) হিসেবে এবং প্রচণ্ড রকম আর্থ-সামাজিক বিভেদ সাপেক্ষে পরিগণিত হত। আম্বেদকরের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট – ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনা এবং তাঁর পিতা “রামজী শাকপাল” মোহ সেনানিবাসের ভারতীয় সেনা নিবেদিত ছিলেন, তিনি সেকালে গতবাধা শিক্ষাপদ্ধতি থেকে মারাঠী এবং ইংরেজীতে ডিগ্রি লাভ করেছিলেন এবং সেইসাথে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা লাভে কঠোর পরিশ্রমে সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করেন। কবির পান্থের মতে, রামজী শাকপাল তাঁর সন্তানদের হিন্দু সংষ্কৃতি পড়তে উদ্বুদ্ধ করতেন। সামরিক বাহিনীতে তিনি তাঁর জায়গা উপশালা ব্যবহার করতেন তাঁর সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশুনার কাজে, যখন তাঁরা তাদের জাতি বৈষম্যতার সম্মুখীন হত। যদিও আম্বেদকর বিদ্যালয়ে যেতেন সাথে একই অস্পৃশ্য জাতির অন্যরাও, তাদের আলাদা করে দেয়া হত এবং শিক্ষকগণ দ্বারা অমনযোগী ও অসহায়ক ছিলেন। তাদের শিক্ষাকক্ষের ভেতরে বসার অনুমতি ছিলো না, এমনকি তাদের যদি তৃষ্ণা পেতো উচ্চশ্রেণীর কোনো একজন এমন উচ্চতা হতে সেই পানি ঢেলে পান করাতো, যেহেতু তাদের (নিন্মশ্রেণীদের) কোনো অনুমতি ছিলো না, পানি স্পর্শ করার বা যেটি তা ধারণ করে। এই কাজটি সাধারণত আম্বেদকরের জন্য করতো বিদ্যালয়ের পিওন এবং যদি পিওন না থাকত বা না আসত তখন সারাদিন জল ছাড়াই কাটাতে হতো, আম্বেদকরের এই আবস্থাকে বলেছিলেন যেন - “পিওন নাই,পানি নাই”(নো পিওন, নো ওয়াটার)।

রামজী শাকপালের ১৮৯৪ সালে অবসর নেন ও দুই বছর পরে তাঁর পরিবার “সতর”-এ চলে আসে। জায়গা বদলের অল্পদিনের পরে, শিশু আম্বেদকরের মাতা মারা যান। তাঁরা (সন্তানরা) মাসীর সান্নিধ্যে কষ্টের পরিবেশে লালিত হন। শুধুমাত্র তিন ছেলে বালারাম, আনান্দ্রা ও ভীমরাও এবং দুই মেয়ে মঞ্জুলা ও তুলাসা'দের মধ্যে আম্বেদকরই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সামর্থ হন এবং মহাবিদ্যালয়ের স্নাতক লাভে সক্ষম হন। ভীমরাও শাকপাল আম্বেদকরের কূলনামটি (বর্ণনামূলক অতিরিক্ত নাম) এসেছে তাঁর “রত্নগিরি” নিজগ্রাম আম্বভাদ থেকে। তাঁর ব্রাহ্মণ শিক্ষক মহাদেব আম্বেদকর, যিনি তাঁর (আম্বেদকরের) প্রতি অত্যন্ত স্নেহ পরায়ণ ছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকায় তিনি নিজ গ্রাম আম্বোভাদকর থেকে পরিবর্তন করে আম্বেদকর রাখেন।

ভারতের সংবিধান খসড়ায় অবদান
১৫ই অগাস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দিন, নব্য গঠিত কংগ্রেস শাসিত সরকার আম্বেদকরকে জাতির প্রথম আইন মন্ত্রী পদ পদার্পণ করেন, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। ২৯ই অগাস্ট, আম্বেদকরকে সংবিধান খসড়া সমিতির সভাপতি করা হয়, যা ভারতের নতুন মুক্ত সংবিধান রচনায় বিধানসভা কর্তৃক আরোপিত হয়। আম্বেদকর তাঁর সহপাঠীদের ও সমকালীন পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এই কাজে আম্বেদকর প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মে সঙ্ঘের-চর্চা নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থে অধিক পড়াশোনাই অনেক সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিলো। ব্যালটের দ্বারা ভোট প্রদান, তর্ক-বিতর্কের ও অগ্রবর্তী নীতিমালা, করণীয় বিষয়সূচী, সভা-সমিতি ও ব্যবসায় সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সমূহের ব্যবহার ইত্যাদি সংঘ চর্চা দ্বারা সমন্বয় সাধিত হয়। সংঘ চর্চা প্রাচীন ভারতের কিছু রাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক উপজাতিগোষ্ঠী যেমন শাক্যবংশ ও লিচ্ছবিররা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর আম্বেদকর যদিও তাঁর সাংবিধানিক অবয়ব তৈরিতে পশ্চিমা প্রণালীর ব্যবহার করেন, বস্তুত এর অনুপ্রেরণা ছিলো ভারতীয়, বাস্তবিকপক্ষে উপজাতীয়।

গ্রানভিলে অস্টিন আম্বেদকর কর্তৃক প্রণীত ভারতীয় সংবিধান খসড়াকে বর্ণনা দেন এভাবে “একনিষ্ঠ ও সর্বোত্তম সামাজিক নথি পত্র।”... 'অধিকাংশ ভারতের সাংবিধানিক শর্ত সরাসরি সামাজিক বিপ্লবের সমর্থনে উপনীত হয়েছে অথবা প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিপ্লবকে পরিপুষ্ট করার চেষ্টা। ' আম্বেদকর কর্তৃক লিখিত ভারতের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ও সুরক্ষা সর্বাধিক সাধারণ জনসাধারণের প্রতি প্রদান করা হয়েছে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা, অস্পৃশ্যতা বিলোপ এবং সব ধরনের বৈষম্য বিধিবহির্ভূত করেন। আম্বেদকর নারীদের অধিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের জন্য যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি এতে বিধানসভার সমর্থন অর্জন করে সিডিউল কাস্টেসভুক্ত নারী সদস্যদের বা সিডিউল উপজাতীয়দের জন্য বেসরকারি খাতে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় কর্মক্ষেত্রে চাকরির বিধান প্রদান করে নির্দিষ্ট আসনের ব্যবস্থা করেন, যা একটি সম্মতিসূচক পদক্ষেপ। ভারতের আইন প্রণেতারা আশা করেন এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক বিভাজন দূর হবে ও ভারতীয় অস্পৃশ্যরা সুযোগ-সুবিধা পাবে, যা ছিলো বস্তুত দৃষ্টিগোচরহীন যেমনটি যখন দরকার ঠিক তখনের মতো।

১৯৪৯ সালের ২৬ই নভেম্বর গণ-পরিষদ কর্তৃক সংবিধানটি গৃহীত হয়। আম্বেদকর ১৯৫১ সালে হিন্দু কোড বিল খসড়াটি সংসদের আস্তাবলে রাখার কারণে মন্ত্রী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা পৈতৃক সম্পত্তি, বিবাহ ও অর্থনীতি আইনের আওতায় লিঙ্গ সমতাকে ব্যাখ্যা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নেহেরু, মন্ত্রীসভা ও অনেক কংগ্রেস নেতারা ইহাকে সমর্থন জানালেও বেশিরভাগ সাংসদ এর সমালোচনা করেন। আম্বেদকর স্বাধীনভাবে ১৯৫২'র নির্বাচনে লোকসভার হয়ে সাংসদে নিন্মপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু হেরে যান। তাঁকে পরে রাজ্যসভার উচ্চ পদস্থ সাংসদ পদে সমাসীন করা হয় ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সদস্যপদে বহাল ছিলেন।

পরলোকগমন
১৯৪৮ সাল থেকে আম্বেদকর ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবনতির জন্য ১৯৫৪ সালে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিনি শয্যাগত ছিলেন ও তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারান। রাজনৈতিক কারণে তিনি ক্রমবর্ধমানভাবে অনেক তিক্তবিরক্ত হয়ে উঠেন, যা তাঁর স্বাস্থ্যের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫৫ সালের পুরোটা জুড়ে তিনি প্রচন্ডভাবে কাজ করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অধিকতর অবনতি হয়। টানা তিন দিন “বুদ্ধ ও তাঁর ধর্ম” বইটির সর্বশেষ পান্ডুলিপি তৈরির পর বলা হয় যে, তিনি ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে তাঁর নিজ বাড়ি দিল্লীতে ঘুমন্ত অবস্থায় চির নিদ্রায় শায়িত হন।

বিবিধ
৭ই ডিসেম্বর তাঁর জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় আদলে দাদার চৌপাট্টি সমুদ্র সৈকতে একটি শাবদাহ নির্মাণ করেন। হাজারো শত অনুসারী, কর্মীবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন। ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে একটি ধর্মান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যারা শাবদাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা একই স্থানে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

আম্বেদকর তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সভিতা আম্বেদকর (বিবাহ পূর্ব নামঃ সার্দা কবির), তাঁর স্বামীর সাথে তিনিও বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে বৌদ্ধালম্বী হিসেবেই মারা যান। উনার পুত্র ইশান্ত (অন্য নাম ভাইয়াসাহেব আম্বেদকর) ও তাঁর পুত্রবধূ মীরা তাই আম্বেদকর। আম্বেদকরের নাতি প্রকাশ যিনি ইন্ডিয়ান বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশান এর জাতীয় সভাপতি। পূর্ব নাম বালাসাহেব ঈশান্ত আম্বেদকর, ভারতীয় "বাহুযান মহাসঙ্ঘ"এর নেতৃত্ব দেন এবং উভয় ভারতীয় লোকসভায় নিয়োজিত।

আম্বেদকরের ব্যক্তিগত মন্তব্য খাতায় ও কাগজে বহু অসমাপ্ত মুদ্রলিখন (টাইপস্ক্রিপ্টস) ও হাতে লেখা খসড়া পাওয়া যায়, পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তা প্রকাশিত হয়েছিলো। যার মধ্যে ছিলো “ওয়েটিং ফর অ্যা ভিসা”, যার সম্ভাব্য লিখিত সময় ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৬ এর মাঝামাঝি এবং একটি আত্মজীবনচরিত ও “অস্পৃশ্য বা ভারতের গেটো শিশুরা” যেটি ১৯৫১'র আদমশুমার হিসেবে বিবেচিত।

আম্বেদকরের জন্য তাঁর দিল্লীসভা ২৬ আলীপুর রাস্তায় একটি স্মারক স্থাপিত হয়। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে আম্বেদকর জয়ন্তী বা ভীম জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। তাঁকে মরণোত্তর ১৯৯০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ উপাধি “ভারত রত্ন” দেয়া হয়েছিল। তাঁর সম্মানে বহু সরকারি প্রতিষ্টানের নামকরণ করা হয় যেমন হায়দ্রাবাদের ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর ওপেন ইউনিভার্সিটি, আন্দ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলাম ডঃ বিআর আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি, মুজাফ্‌ফরপুরের বি আর আম্বেদকর বিহার ইউনিভার্সিটি এবং জালান্দরের বি আর আম্বেদকর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ও নাগপুরের ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শোনগাঁও বিমানবন্দর। ভারতের সংসদ ভবনে আম্বেদকরের একটি বিশাল প্রতিকৃতি প্রদর্শিত আছে।

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া থেকে সংকলিত

Hindi Shayari

hindi love shayari