জানা গিয়েছে, ১৯৮১ সালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার উদ্যোগে কোচবিহারের রাজপথে বেশ কয়েকটি দোতলা বাস যাত্রা শুরু করে। সেসময় স্থানীয় মানুষ তো বটেই, বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাও দোতলা বাসে চড়ার আনন্দ উপভোগ করতেন। বিয়ে বা অন্য পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করার জন্যও এই বাসটিকে ভাড়া নেওয়া হত। ফলে জনমানসে এটির দ্রুত জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় দোতলা বাস পরিষেবা বাম আমলের শেষের দিকে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে সংস্থার তৎকালীন চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের আমলে বাসটি সংস্কার করে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিও কিছুদিনের মধ্যেই ফের তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একাধিকবার বাসটি চালুর দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ইতিমধ্যেই একটি দোতলা বাস অকেজো হয়ে ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ায় কয়েক বছর আগেই কেজিদরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পড়ে থাকা একটি বাসেরও যাতে সেই পরিস্থিতি না হয় তাই সেটিকে ফের রক্ষণাবেক্ষণ করে চালানোর দাবি উঠেছে।
বছরদুয়েক আগে চেন্নাইয়ে একটি নামি গাড়ি নির্মাণ সংস্থা দোতলা বাসটিকে তাঁদের মিউজিয়ামে রাখার জন্য এনবিএসটিসির কাছে আবেদন জানায়। চেন্নাইয়ে মিউজিয়ামে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী দোতলা বাসটিকে রাখা হলে দেশ-বিদেশের মানুষ দোতলা বাসটি দেখার সুযোগ পাবেন বলে কোচবিহারের বাসিন্দাদের একটি অংশ দাবি করেন। সেইসঙ্গে জাতীয়স্তরে চর্চিত হবে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার নাম। আবার আরেক অংশের দাবি, যেহেতু কোচবিহারবাসীর আবেগ এবং ঐতিহ্য এই বাসটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাই কোনওভাবেই এটিকে জেলার বাইরে যেতে দেওয়া উচিত নয়। যদিও এই টানাপোড়েনের জেরে বাসটিকে আর জেলার বাইরে পাঠানো হয়নি। কোচবিহারের প্রবীণ বাসিন্দা তথা ইতিহাসবিদ নৃপেন পাল বলেন, ইতিহাস যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বাসটিকে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির সম্পাদক অরূপজ্যোতি মজুমদার বলেন, বাসটিকে যদি চালানো সম্ভব না হয় তাহলে প্রদর্শনের জন্য কোথাও রাখা উচিত। বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, বাসের ভিতরে লাইব্রেরি রয়েছে। সেরকমও করা যেতে পারে।
সূত্র..উ.ব. সংবাদ।
No comments:
Post a Comment
If you have any doubts, Please let me know.